প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধে আইনের প্রয়োগ চাই: মহেশখালীতে ৪০ বানর হত্যা Govt mulling mechanization to boost jute production Upholding rights of rivers still a far cry Young people can be saviours in dealing with climate change Sylhet tourism on road to recovery Organic pesticides catching on Tale of ‘Tuiya’: Water pots made from bottle gourd A Proclamation on Child Health Day, 2021 Climate-induced challenge to nation’s food security হাকালুকিতে হিজল-করচসহ ২০ হাজার বৃক্ষ নিধন

গবেষণার তথ্য: লইট্টায় ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা

prothomalo-bangla_2020-10_07c8180c-8cd2-4a1e-9151-63238064d5d0_Capture

ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১: দেশে শুঁটকির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল বিক্রীত হচ্ছে লইট্টা। কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম খালেকুজ্জামানের দেওয়া তথ্যমতে, কক্সবাজার উপকূলে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদিত হয়। এর এক-তৃতীয়াংশ লইট্টা শুঁটকি।

গবেষক দলের সদস্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক মো. শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিক কণাকে আগামী দিনের জন্য অন্যতম ক্ষতিকারক উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের আরও সাবধান হতে হবে। কারণ এটি ঘুরেফিরে আমাদের দেহে প্রবেশ করছে।’

গবেষক দলের সদস্যদের ভাষ্য, যেসব প্রাণীর দেহে প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে লইট্টা। এই মাছ শুঁটকি করার সময় এর পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্র কেটে ফেলা হয় না। ফলে প্লাস্টিক কণাসহ সেটি শুঁটকিতে পরিণত হয়। খাবারের সঙ্গে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

যদিও সার্ডিন রান্না করার ক্ষেত্রে পরিপাকতন্ত্র ফেলে দেওয়া হয়। তবে হোটেলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বড় চিংড়ি রান্না করার ক্ষেত্রে খোলস রেখে দেওয়া হয়। ফলে প্লাস্টিক কণা ওই খোলসের মধ্যে থেকে যায়। রান্নার সঙ্গে সেটিও প্রবেশ করে মানবদেহে।

সরকারের সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরিফ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সামুদ্রিক মাছের পরিমাণ ও ধরন নিয়ে জরিপ করছি। তাই সেখানকার মাছের মধ্যে যাতে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আমাদের আগে থেকে সাবধান হতে হবে। জেলেরা যাতে নৌকায় করে প্লাস্টিক সামগ্রী না নেয়, জাহাজ থেকে প্লাস্টিক সামগ্রী সাগরে ফেলা না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হতে হবে।’

লইট্টা মাছের ভরা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। বঙ্গোপসাগর থেকে জেলেরা নৌকা ভর্তি করে লইট্টা নিয়ে উপকূলে ফিরতে শুরু করেছেন। এর বেশির ভাগেরই গন্তব্য শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত কারখানা। দেশের একদল গবেষক জানাচ্ছেন, অনেকের পছন্দের এই মাছের মধ্যে নতুন এক বিপদ লুকিয়ে আছে। এর পরিপাকতন্ত্রে পাওয়া গেছে প্লাস্টিক কণা, যা মানুষসহ যেকোনো প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার গবেষক বঙ্গোপসাগর থেকে আহরিত ওই মাছের পেটে খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিক কণা পেয়েছেন। ক্ষতিকর এই বস্তুটি পাওয়া গেছে সামুদ্রিক মাছ সার্ডিন ও চিংড়ির দেহেও। সামুদ্রিক সবুজ শামুক ও কাঁকড়ার পাকস্থলীতেও প্লাস্টিক কণা পেয়েছে গবেষক দলটি।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্লাস্টিক কণা যেকোনো প্রাণীর জন্যই ক্ষতিকারক। ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, হজমের সমস্যাসহ নানা ধরনের রোগের কারণ হতে পারে কৃত্রিম উপাদানটি, যা নিয়মিতভাবে খাবারের সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে আরও নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

লইট্টা ও সার্ডিনের ওপর করা গবেষণাটি সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট আর চিংড়ির ওপর করা গবেষণাটি ক্যামোস্ফেয়ার নামের আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি গবেষণা দুটি প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।

সব নমুনায় প্লাস্টিক কণা

প্রকাশিত ওই দুই গবেষণায় উত্তর বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন স্থান থেকে লইট্টা, চিংড়ি ও সার্ডিনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রায় ৩০০ মাছের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলো কেটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। সবগুলোতে পাওয়া যায় প্লাস্টিক কণা।

গবেষণায় মূলত ছয় ধরনের প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এগুলোর উৎস খুঁজতে গিয়ে গবেষক দলটি দেখেছে মূলত পলিয়েস্টারের তৈরি মাছ ধরার জাল, কর্কশিট, খাবারের প্যাকেট ও পলিথিন, পানির বোতল ও আসবাব থেকে ওই প্লাস্টিক কণা এসেছে। সেগুলো নদী থেকে সাগরে গিয়ে পড়েছে। ঢেউয়ের তোড়ে সেগুলো ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হচ্ছে। মিশে যাচ্ছে প্রাণী ও উদ্ভিদকণার সঙ্গে। আর মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী তা খেয়ে নিচ্ছে খাদ্য ভেবে।

গবেষক দলটির ভাষ্য, এই প্লাস্টিক কণা খাওয়ার কারণে মাছের শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। কমে যায় মাছের হজমশক্তি। ব্যাহত হয় বৃদ্ধি। গবেষক দলটি এখন বঙ্গোপসাগরের অন্য বড় মাছে প্লাস্টিকের উপস্থিতি আছে কি না, তা নিয়ে কাজ করছে।

গবেষক দলের আরেক সদস্য ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সুব্রত সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের ছোট মাছে এই ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার ফলে আমাদের মনে হচ্ছে এখানকার অন্য সব প্রাণীর শরীরেও তা থাকতে পারে। সেগুলো অনেকাংশই আমরা খাচ্ছি, রপ্তানি করছি। তাই সবার আগে নদী ও সমুদ্রে প্লাস্টিক ফেলা বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর হতে হবে।’

গবেষক দলটি জানিয়েছে, প্লাস্টিক কণা মাছসহ অন্যান্য জৈব উপাদানের মধ্যেও পাওয়া যাচ্ছে, যা জাপান, নরওয়ে, সুইডেন, মেক্সিকোসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের উপকূল থেকে আহরিত মাছে মাত্রাতিরিক্ত পাওয়া গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এত দিন এ বিষয়ে কোনো গবেষণা ছিল না। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক গবেষণা শুরু হলেও শেষ হয়নি।

ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিক আহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি। পণ্যের মোড়কসহ নানা কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের সামগ্রী যাতে যত্রতত্র ফেলা না হয় এবং তা সংগ্রহ করে যাতে পুনর্ব্যবহার করা যায়, সে ব্যাপারে কাজ করছি। এসব পণ্যের উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ কাজে আমাদের সহযোগিতার পরামর্শ দিচ্ছি।’

বিস্তারিত

 

Posted by on Sep 9 2021. Filed under Bangla Page, Bangladesh Exclusive, Food security, News at Now, No Plastic, No Toxic. You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0. You can leave a response or trackback to this entry

Leave a Reply

Polls

Which Country is most Beautifull?

View Results

Loading ... Loading ...