Experts urged to ratify Minamata Convention to phase out mercury-added products পারদযুক্ত পণ্যের ব্যবহার বন্ধে মিনামাতা কনভেনশন অনুমোদনের আহ্বান সেন্টমার্টিন সৈকতে প্লাস্টিকের আগ্রাসন 72 birds die eating pesticide-treated masakalai Educate girls to save the planet শিশুর সর্দি-কাশি সারানোর ঘরোয়া উপায় 50 Books All Kids Should Read Before They’re 12 24 thousand under 5 children die of pneumonia in Bangladesh annually গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ Maldives: Eco-friendly product export destination for Bangladesh

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব ভয়াবহ পরিবর্তনের মুখোমুখি


ঢাকা, ১২ অগাস্ট, ২০২১: করোনা মহামারি ছাড়াও বিশ্বের অনেক দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, বেলজিয়াম, তুরস্ক, গ্রিস, ইতালিসহ আরও অনেক দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে চলেছে। এর ফলে ওইসব দেশে বইছে বন্যা, ভাঙছে শহর, জ্বলছে আগুন, পুড়ছে জঙ্গল। ঠিক তেমন একটি ভয়ঙ্কর ভয়াবহ সময় এখন বাংলাদেশে। এলিট সম্প্রদায়ের দেহ-মন জ্বলে পুড়ে মরছে একজন মানুষের জন্য। তার নাম পরীমনি।

আর এ ঘটনা সম্পর্কে খবরাদি নেয়ার জন্য সব টিভি চ্যানেল, পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রাতের ঘুম হারাম করে ফেলেছে। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগে-পরীমনি কি তাহলে যুগের পরিবর্তন নাকি সমাজের এলিটদের সনদপত্র? এ প্রশ্ন এখন দেশের মানুষের মাথায়। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর আমাদের প্রকৃত অর্জন হয়েছে দুটো।

একটি দুর্নীতি, অন্যটি এলিট সমাজের মনুষ্যত্বের অবক্ষয়। আমি চিৎকার করে ধিক্কার জানাই দূরপরবাস থেকে এই দুটি অর্জনকে।

আজকের অনেক পত্রিকায় দেখলাম লেখা হয়েছে কীভাবে ভিয়েতনামকে গার্মেন্টসে পিছে ফেলা যায়। সবাই হতাশ বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্প বিশ্বের প্রথম সারিতে নেই, কিন্তু কেন আমরা দুশ্চরিত্রে এবং দুর্নীতিতে বিশ্বসেরা? তারপরও সেটা গর্ব করে বলতে পারছি না, কারণ কী?

এতবড় অর্জন অথচ এ খবর শুধু লজ্জা এবং ঘৃণায় ভরা। তারপরও এটাই সারাদেশের আনাচে কানাচে থেকে শুরু করে এলিট সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করছে। ঢোল টগর বাজবে, আওয়াজ হবে না তা তো হতে পারে না!

সারাদেশের পত্রিকাগুলোতে চোখ বুলাতেই একটিই খবর, পরীমনি। জাতি তাহলে এটাই ডিজার্ভ করে? নইলে আমাদের কি আর কিছুই লেখার নেই? আছে, তা সত্ত্বেও পরীমনির কাহিনি লাগছে ভালো…। আমি অত্যন্ত দুঃখিত এমন একটি ঘটনা নিয়ে লেখার জন্য। এবার আসি সিরিয়াস বিষয় নিয়ে।

যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকৃতির পরিবর্তন শুরু হয়েছে যার ফলে জলবায়ু থেকে শুরু করে অনেক কিছুর পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের কারণে অনেক ধনী দেশ বুঝতে পারছে বন্যায় ডুবে মরার কী জ্বালা। আফ্রিকা আগুনে পুড়ে মরলে বা না খেয়ে মরলে কার কী আসে যায়!

বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ১৫ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা গেলে মধ্যপ্রাচ্যে বা বিশ্বের কী আসে যায়? মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের আজীবন জীবনের নিশ্চয়তা রয়েছে কারণ না চাইতেই সব কিছু পেয়েছে। আবার অনেক দেশ চাইলেও কিছু পাচ্ছে না। এ অন্যায়, এ অবিচার।

এর প্রতিবাদ করার কথা ছিল আমাদের, বিশ্বের সৃজনশীল মানুষের, কিন্তু আমরা তা করতে ব্যর্থ হয়েছি। যার ফলশ্রুতি প্রকৃতি নিজেই সেই দায়িত্ব পালন করতে শুরু করছে। করোনা দিয়ে শুরু। বন্যা, আগুনসহ আরো মহামারি দিয়ে হবে শেষ। তবে কবে কোথায় কখন তা জানব যখন ঘটনা ঘটবে।

পরিবর্তন যখন হতে শুরু করেছে তখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এতদিন বিনা পরিশ্রমে তেল বিক্রি করে বিলাসিতার যে জীবন ভোগ করছে, সে সুযোগগুলো আফ্রিকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যে পাবে না তা কি কেউ বলতে পারি?

বাংলাদেশ যে সারা বছর বন্যায় ভাসে সেটা যে এখন অন্য দেশগুলোতে ঘটবে না তাই বা কে জানে! ধর্মকে ব্যবহার করে যারা ভন্ডামি করছে তাদের জীবন যে ধ্বংস হবে না তাও কি কেউ বলতে পারি? না। তবে ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে যা আমরা দেখতে পাচ্ছি।

অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি এলিট নামের ক্ষমতাশালী মানুষগুলো প্রায় ১৫ কোটি মানুষের রক্ত চুষে খাচ্ছে, ভেবেছে কি তারা এভাবেই খেতে থাকবে? না। এমন সময় আসবে যখন এসব দুর্নীতিবাজ ও দুশ্চরিত্র কীট একের পর এক লাঞ্ছনা আর গঞ্জনার মধ্যে হাবুডুবু খাবে আর জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে পড়ে তিলে তিলে ধ্বংস হবে।

নিয়তির পরিহাস বোঝা কঠিন হলেও পূর্বাভাস দেখে মনে হচ্ছে ভয়ঙ্কর ভয়াবহ সময় আমাদের সামনে। এক পরীমনিকে নিয়েই মেতে আছে পুরো দেশ, কী অবস্থা আমাদের শিক্ষার্থীদের সেটা নিয়ে কি কিছু লেখার বা বলার নেই? বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ স্কুল খোলার নাম গন্ধ নেই। এসব নিয়ে তো কোনো প্রতিবেদন দেখি না?

ভবিষ্যৎ পরীমনির হাতে! আর ডিপ্রেসড, ফ্রাস্ট্রেটেড স্টুডেন্টসরা সুসাইড করুক, বাকিরা বিয়ে করে জনসংখ্যা বৃদ্ধি করুক এবং পরে না খেয়ে মরুক এটাই কি সবাই চায়? আশ্চর্য হই কীভাবে রাষ্ট্র এসব নিউজের প্রাধান্য দেয়! দেশের সবাই কি নির্লজ্জ হয়ে গেছে?

দেশের সম্পদ এভাবে ধ্বংস করার অধিকার কে দিচ্ছে? আজ পরাধীন হলেও না হয় মনকে বুঝ দিতাম, কিন্তু এ তো স্বাধীন বাংলাদেশ! এসব দেখার জন্যই কি ত্রিশ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছিল? দেশে কি একটি মানুষও নেই যে এর প্রতিবাদ করতে পারে? মনে হচ্ছে এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি সবার মাঝে একটি নাম মোদের পরীমনি।

অনেক সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে এমপি, মন্ত্রী, তাদের বৌ-কন্যাদের সম্পদ রাতারাতি বাড়ছে যা পুরো দেশের মানুষ জানে কিন্তু কিছুই করার নেই। কারণ সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই জনগণের কাছে জবাবদিহি করার।

তবে আজ যদি সত্যিকার শাসন চলতো দেশে, তাহলে সরকার ও জনগণ মিলে দেশের এই অরাজকতার বিনাশ ঘটাতে পারতো অতি সহজে। প্রশ্ন হলো সরকার কি সত্যিকারার্থে সেটা করতে ইচ্ছুক? খুব জানতে ইচ্ছে করে!

যাই হোক বছরের পর বছর একের পর এক এ ধরনের পরীমনিকে হুট করে সমাজে টেনে এনে দেশে হৈচৈ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বাধীনতার সঙ্গে নৈতিকতাকে টেনে এনে আইনকে বেআইনের পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ রকম সমাজে এলিট গ্রুপই লাভবান, কারণ সাধারণ মানুষেরা ক্ষমতা এবং অর্থের অভাবে কিছুই করতে পারে না।

সবার এখন এই অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। ব্যক্তিস্বাধীনতা হলো প্রতি মুহূর্তের জন্য একটি চলমান চ্যালেঞ্জ, এর মোকাবিলা করতে হবে। এই রাষ্ট্র আমাদের স্বাধীনতাগুলো এভাবে কেড়ে নিতে না পারে তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

তবে বাস্তবে অনেক ক্ষতিকর কিছু ঘটছে অনেক দিকে, অনেক অবিচার ও আর্তনাদের ময়লা উড়ছে সমাজের কোণায় কোণায়। সেদিকে চোখ থাকুক আমাদের।

বিস্তারিত

 

Posted by on Aug 12 2021. Filed under Climate change, News at Now, Uncategorized. You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0. You can leave a response or trackback to this entry

Leave a Reply

Polls

Which Country is most Beautifull?

View Results

Loading ... Loading ...